হজের সফর বনাম আখেরাতের সফর

hajj_zahirbabor.com

This post has already been read 3076 times!

hajj_zahirbabor.comমূল: ইমাম গাযালী রহ.; অনুবাদ: জহির উদ্দিন বাবর

হে বন্ধু! খানায়ে কাবা মহান প্রভুর ঘর। এটা আসমান ও জমিনের বাদশার দরবার। আপনি সেই শাহী দরবারে যাচ্ছেন। মূলত তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতে যাচ্ছেন। এই পার্থিব দুনিয়ায় আপনার চোখ দিদারে এলাহীর ক্ষমতা রাখে না। তবে বায়তুল্লাহ জিয়ারতের দ্বারা এর কিছুটা স্বাদ মিটে। এর দ্বারা মহান রাব্বুল আলামিনের ওয়াদা মতো আপনার আখেরাতে প্রভুর দিদার নসিব হতে পারে। হজের এই সফর আখেরাতের সফরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ এই সফরে দেখা মিলবে মহান স্রষ্টার। দেখুন, এই সফরকে কোনোভাবেই বিনষ্ট হতে দেবেন না, যার দ্বারা পরকালে প্রভুর দিদার থেকে বঞ্চিত হতে হয়। এই সফরের প্রতি মুহূর্তে আখেরাতের কথা স্মরণে রাখুন। এতেই অর্জিত হতে পারে সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য।
হে বন্ধু! মনে রাখবেন, এই সফরের আসল বাহন হলো উৎসাহের বাহন। আপনার উৎসাহ-উদ্দীপনা যত সতেজ থাকবে তত আপনি দ্রুত লক্ষ্যপানে ছুটে যেতে পারবেন। আল্লাহর সঙ্গে ভালোবাসার গভীর সম্পর্ক স্থাপন করুন। যে অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা গভীর সেই অন্তর কাবার দিদারে ব্যাকুল হয়ে উঠে। আল্লাহর মহব্বতই দিদারে কাবার উসিলা। প্রিয়জনের সঙ্গে যেসব জিনিস সম্পর্কিত সেইসব জিনিসের প্রতিও প্রেমিকের আন্তরিক ভালোবাসা জন্ম নেয়।  তার শহর, অলিগলি, দরজা-জানালা সবই প্রিয় মনে হয়। খানায়ে কাবাকে আল্লাহ তাঁর ঘর বলে অভিহিত করেছেন। যদিও আল্লাহ কোনো ঘরের মুখাপেক্ষি না। তবে যেহেতু আল্লাহ এটাকে নিজের ঘর হিসেবে অভিহিত করেছেন সুতরাং কেউ এই ঘরের আশেক হলে অবশ্যই মাহবুবে হাকিকি তথা আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
খানায়ে কাবা আল্লাহর ঘর এজন্য যদি আপনি এই ঘরের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করেন তাহলে নিয়তটাকে একমাত্র আল্লাহর জন্য খালেস করে নিন। মনে রাখবেন, ইখলাস ছাড়া তাঁর কাছে কোনো ইচ্ছা ও আমল গ্রহণযোগ্য না। এজন্য যেসব বিষয়ে রিয়া তথা লৌকিকতা আছে তা বর্জন করুন। এটা কত দুর্ভাগ্যের বিষয় সফর হলো বাদশার সঙ্গে সাক্ষাতের; আর এই সফরে ভিন্ন কিছু উদ্দেশ্য অন্তরে লুকায়িত! অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর ঘরের জিয়ারত থাকলে সেখানে অন্য কোনো বিষয় স্থান পাওয়ার কথা না।
হজের সফরও অন্যান্য সফরের মতো কষ্টের। বাড়িঘর ছেড়ে, ধনসম্পদ রেখে, দেশ ত্যাগ করে যেতে হয়। তবে এই সফরের সাফল্যের জন্য সর্বপ্রথম এসব জিনিসের মায়া ত্যাগ করুন। অন্যের যত হক আছে তা সফরের আগেই সংশ্লিষ্টদের বুঝিয়ে দিয়ে যান। মনে রাখবেন, সামান্য জুলুমও যার ওপর করেছেন তার কাছে আপনি ঋণগ্রস্ত। তিনি আপনার কলার ধরে এ কথা বলার অধিকার রাখে যে, কোথায় যাচ্ছ? শাহানশাহের দরবারে যাচ্ছ গোনাহসহ, ভয় করছো না তিনি যদি তোমাকে ফিরিয়ে দেন। এজন্য কাবার জিয়ারত সফল করতে আগেই সব হক থেকে মুক্ত, সব গোনাহ থেকে পরিচ্ছন্ন হয়ে যান। আল্লাহর নির্দেশ পুঙ্কানুপুঙ্কভাবে পালন করুন।
অন্তরের সম্পর্ক আল্লাহ ছাড়া সবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিন। যার দিকে আপনার যাত্রা সেই মহান সত্তার ঘরের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করুন। দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এমনভাবে ছিন্ন করে নিন যাতে পরে আর এখানে ফিরে আসতে না হয়। পরিবার-পরিজনের জন্য ওসিয়ত লিখে যান। সফরের খরচ এই পরিমাণ সঙ্গে নিন যাতে কোথাও কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়। মনে রাখবেন, আখেরাতের সফর এই সফরের চেয়ে অনেক দীর্ঘ এবং অনেক বেশি কঠিন। সেই সফরের একমাত্র পাথেয় তাকওয়া। তাকওয়া ছাড়া যত ধন-সম্পদ আছে সবই আপনাকে ধোঁকা দেবে; মৃত্যুর সময় কোনো কিছুই সঙ্গে যাবে না। এজন্য হজের সফরে এমন কোনো কাজ করবেন না যা পরকালে আপনার সঙ্গ দেবে না। এই সফরে পরকালের সফরের জন্য সর্বোচ্চ পাথেয় সংগ্রহের ব্যাপারে সবসময় সচেষ্ট থাকুন।
হে বন্ধু! পরিবার-পরিজন ও বাড়িঘর ছেড়ে যখন যানবাহনে চড়ে বসেন তখন আল্লাহর শোকর আদায় করুন যিনি জল, স্থল ও আকাশে আপনার জন্য বাহনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আপনি যখন যানবাহনে চড়ে বসলেন তখন নিজের জানাজার কথা চিন্তা করুন; যেদিন বিশেষ যানে চড়ে আপনাকে আখেরাতের দিকে সফর করতে হবে। হজের জন্য যানবাহনে এমনভাবে চড়–ন যেন আখেরাতের সফরের জন্য লাশ হয়ে কোনো যানে চড়েছেন। হজের সফরের চেয়েও আখেরাতের সফর যে নিকটবর্তী নয় তা কে না জানে!
প্রিয় বন্ধুরা! ইহরামের জন্য যখন কাপড় কিনবেন তখন ওই দিনের কথা স্মরণ করুন যেদিন সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে কাফন পরানো হবে। এমনও তো হতে পারে হজের সফরের মধ্যেই আখেরাতের সফরের ডাক এসে যাবে। কাফনে মোড়ালে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ নিশ্চিত। যেমনিভাবে আল্লাহর ঘরের জিয়ারত দৈনন্দিন কাপড় খুলে বিশেষ পোশাক পরা ছাড়া হয় না তেমনি দুনিয়া ত্যাগ করে এর বিপরীত পোশাক না পরলে আল্লাহর জিয়ারত লাভ হবে না।
ihram_zahirbabor.comবন্ধুরা! প্রিয়জন ছেড়ে যখন হজের সফরে বেরিয়ে পড়লেন তখন দুনিয়ার অন্যান্য সফরের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। চিন্তা করতে হবে, আমার উদ্দেশ্য কী? আমি কোথায় যাচ্ছি? কার জিয়ারত আমার উদ্দেশ্য? ভালোভাবে মনে রাখবেন, এই সফরে আপনার উদ্দেশ্য আল্লাহ তাআলা। আপনি যাচ্ছেন তাঁর ঘরে। তাঁর প্রেমাসক্তিতে, তাঁরই নির্দেশে দুনিয়ার সবকিছু ত্যাগ করে আপনি ছুটে চলেছেন কাক্সিক্ষত সেই ঘরের উদ্দেশে। এর উসিলায় আপনি সেই ঘরের মালিকের সাক্ষাৎ পাবেন। তবে নিছক নিজের আমলের ওপর কোনো ভরসা করবেন না; সবসময় আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের ওপর ভরসা করবেন। তিনিই গন্তব্যে পৌঁছাবেন, তিনিই সার্বিক সহযোগিতা করবেন। এই সফরে যদি আখেরাতের সফরের ডাক এসে যায় তবুও তো আপনি এই অবস্থায় ডাক পেলেন যখন তাঁরই সাক্ষাতে যাচ্ছিলেন। তখন আপনার উদ্দেশ্য অবশ্যই সফল হবে। আল্লাহ তাআলা কি ওয়াদা করেননি- ‘যে কেউ নিজ ঘর থেকে বের হয় আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি হিজরতের উদ্দেশে, অতঃপর মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তবে তার সওয়াব আল্লাহর কাছে অবধারিত হয়ে যায়।’ [সূরা নিসা-১০০০]
নিজ শহর থেকে বেরিয়ে মিকাতের দিকে যখন সফর করবেন তখন মৃত্যুর পর শরীর থেকে আত্মা বেরিয়ে কেয়ামত পর্যন্ত যে সফর করবে সে কথা একটু ভাবুন। কবরের একাকীত্ব ও শাস্তি, সফরের পদে পদে বিপদাপদ এবং মুনকির-নাকির ফেরেশতার প্রশ্নের কথা কল্পনা করুন।
হে বন্ধু! মিকাতে গিয়ে যখন ‘লাব্বাইক’ বলবেন তখন অন্তর যেন ভয় ও আশায় কেঁপে উঠে। এটা মহান স্রষ্টাকে সম্বোধন! যখন বলছেন, ‘বান্দা হাজির হে প্রভু তোমার দরবারে’ তখন যেন মুখের ওপর বলে না দেন, ‘তোমার জন্য কোনো হাজিরি নেই, তোমার জন্য কোনো স্বাগত নেই।’ হযরত আবু সুলাইমান দারানী রহ. বলতেন, ‘আমি শুনেছি, যারা নাজায়েজ সম্পদ নিয়ে হজ করতে যায় তাদেরকে আল্লাহ বলেন, তোমার ‘লাব্বাইক’ আমার কাছে গ্রহণযোগ্য না। তোমার প্রতি আমার পক্ষ থেকে কোনো স্বাগত নেই। যতক্ষণ না তুমি তোমার অবৈধ সম্পদ হকদারদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছো।’ তবে চরম আতঙ্কের মধ্যেও পুরোপুরি প্রত্যাশা রাখতে হবে যে, অবশ্যই আমার প্রভু আমার ডাক কবুল করবেন। নিজের আমলের ওপর কোনো ভরসা নয়; আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের ওপর ভরসা করা চাই।
আল্লাহ তাআলাকে সম্বোধন করে যখন ‘লাব্বাইক’ বলবেন তখন ওই কথা স্মরণ করুন যখন সিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে আর সবাই ছুটে চলবে হাশরের ময়দানের দিকে। সবাই ভাববে, কোন কাতারে দাঁড়াবো। আমার আমলনামা কোন হাতে দেয়া হবে! আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের সঙ্গে, ডানপন্থীদের সঙ্গে নাকি বামপন্থীদের সঙ্গে থাকবো!
হে বন্ধু! যারাই হারামে প্রবেশ করে তারাই নিরাপদ। মক্কায় প্রবেশ করার পর আল্লাহর গজবের কথা মনে মনে স্মরণ করুন। আর আশা রাখুন, আল্লাহ আপনাকে তার গজব থেকে রক্ষা করবেন। আর মনে মনে এই ভয়ও পোষণ করুন যে, আমি যদি তার নৈকট্য লাভ করতে না পারি তাহলে নাজানি কোন গজব আমাকে স্পর্শ করে বসে! তবে রহমানের ঘরে পৌঁছে যাওয়ার পর, তার আঙ্গিনায় প্রবেশ করার পর সব ভীতির ওপর আশাকে স্থান দিতে হবে। কারণ তার দয়া ও অনুগ্রহ সর্বসাধারণের জন্য; তিনি তার ঘরের মেহমানদের সম্মান ও খেদমতের  বিষয়টি বিশেষ বিবেচনা করেন।
হে বন্ধু! যখন খানায়ে কাবার ওপর নজর পড়লো তখন যেন এমন না হয় যে, কাবার মর্যাদার বিষয়টি অন্তরে নেই। যিনি এই ঘর স্বচক্ষে দেখছেন তিনি যেন এই ঘরের মালিককেই স্বচক্ষে দেখছেন। এখান পর্যন্ত পৌঁছতে পারার শোকর ্আদায় করুন। তখন ওই মুহূর্তের কথা স্মরণ করুন যখন আল্লাহর দিদার লাভে সবার চেহারায় পরিতৃপ্তির ছাপ অনুভূত হবে। প্রত্যাশা রাখুন, আজ যেভাবে তার ঘর চোখের সামনে ভাসছে, কাল স্বয়ং তিনিই চোখের সামনে এভাবে ভাসবেন।
হে বন্ধু! যখন তওয়াফের নিয়ত করবেন তখন অন্তর যেন থাকে উচ্ছ্বাসে ভরপুর, আল্লাহর ভয় মহব্বত ও ভক্তিতে পরিপূর্ণ। শুধু শারীরিকভাবে বায়তুল্লাহর চারপাশে ঘোরাই তওয়াফের উদ্দেশ্য নয়। তওয়াফের আসল উদ্দেশ্য এই ঘরের মালিকের প্রতি পূর্ণ মনোনিবেশ করা। ফেরেশতারা যেভাবে আরশে তওয়াফ করে সেভাবে তওয়াফের চেষ্টা করুন।
যখন হাজরে আসওয়াদে চুমু খাবেন তখন মনে মনে ভাবুন মহান ¯্রষ্টার কাছে আনুগত্যের অঙ্গীকার করছেন। হাজরে আসওয়াদের ব্যাপারে নবী করিম সা. বলেছেন, ‘আল্লাহর ডান হাত জমিনে, এর দ্বারা তিনি বান্দার সঙ্গে এমনভাবে মুসাফাহা করেন যেন একজন আরেকজনের সঙ্গে মুসাফাহা করেন। [মুসলিম] এটা আমাদের সৌভাগ্য যে, আমরা এখানে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছি। এবার আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হোন এবং তাঁর আজাব-গজবের হাত থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে সংকল্প করুন।
যখন আপনি খানায়ে কাবার গিলাফ ধরলেন তখন যেন আল্লাহর হাত আঁকড়ে ধরলেন। মুলতাজিমের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যান যেন আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করতে চাচ্ছেন। একজন অপরাধীর মতো ধরে থাকুন। ক্ষমার জন্য কাকুতি-মিনতি করুন। এটা তো ক্ষমাা প্রার্থনা, লজ্জিত হওয়া আর অন্তরে ভয় সৃষ্টির সুবর্ণ মুহূর্ত। কেঁদে কেঁদে প্রার্থনা করুন, ‘(হে প্রভু) আপনার আস্তিন ছেড়ে কোথায় যাবো? কার সামনে হাত পাতবো? কার পায়ে আঁকড়ে ধরবো? আমার আশ্রয়ের জন্য আপনাকে ছাড়া তো আর কোনো জায়গা নেই। আপনার দয়া ও অনুগ্রহ ছাড়া তো আমার কোনো ঠিকানা নেই। কোনোভাবেই আপনার আস্তিন ছাড়বো না, আপনার দরবার থেকে ফিরে যাবো না। যতক্ষণ আপনি আমাকে ক্ষমা করছেন না ততক্ষণ আপনার দরবারে পড়েই থাকবো।’
হে বন্ধু! সাফা-মারওয়ায় সাঈ করার সময় একজন নিঃস্ব, এতিমের মতো কাতর হয়ে চক্কর দিন যেন গোলাম বাদশাহর বারান্দায় চক্কর লাগাচ্ছে। ইখলাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটান যাতে প্রভুর রহমতের দৃষ্টি পড়ে যায়। বারবার আহাজারি করুন, চাইতে থাকুন; একবার না হোক, দুইবার না হোক কোনো না কোনো বার তো অবশ্যই তিনি সাড়া দেবেন সেই প্রত্যাশা রাখুন। বুকভরা আশা নিয়ে সাফা-মাওয়ার মধ্যে দৌড়াতে থাকুন।
হে বন্ধু! যখন আপনি আরাফাতের ময়দানে যাবেন তখন কেয়ামতের ময়দানের কথা একটু কল্পনা করুন। কত বর্ণের, কত গোত্রের, কী বিচিত্র ধরনের মানুষ! এখানেই কেয়ামতের দিন গোটা মানব জাতি একত্রিত হবে। সে দিন আমলের ভিত্তিতে বিভাজন হবে মানুষের মধ্যে। মনে রাখবেন, এই আরাফাতের ময়দান হলো আল্লাহর রহমত নাজিল হওয়ার অন্যতম জায়গা। যারা এখানে কাতর হয়ে চাইবে; কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা জানাবে নিশ্চিতভাবে আল্লাহ তাদেরকে মাহরুম করবেন না। আল্লাহ তাদের ওপর এমন রহমত নাজিল করবেন যা তাকে প্রশান্তির প্রলেভে ঢেকে রাখবে।
হে বন্ধু! প্রতীকী শয়তানকে কংকর মারায় বাহ্যত কোনো যুক্তি নেই; কোনো বিতর্কের এখানে সুযোগ নেই। সবার উপরে আল্লাহর নির্দেশ। গোলাম তার প্রভুর নির্দেশ যা তাই করবে সেটা যুক্তিতে বুঝে আসুক বা না আসুক। আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নেই অন্তরে অনুভূত হয় প্রশান্তি। কুরবানিও আল্লাহর আনুগত্যের বড় বহিঃপ্রকাশ। এর দ্বারা লাভ করা যায় আল্লাহর নৈকট্য। আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা রাখুন, কুরবানির প্রতিটি অংশের বিনিময় যেন আল্লাহ দান করেন।
সুতরাং হে বন্ধুরা! হজের প্রতিটি মুহূর্তে আখেরাতের কথা স্মরণ করুন। সীমাহীন সেই সফরের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করুন। তবেই হজ হবে সফল ও সার্থক।

Related posts

*

*

Top