হজ নিয়ে মোদির ফতোয়া!

This post has already been read 489 times!

জহির উদ্দিন বাবর
Modi_zahirbaborইসলাম ধর্মের অন্যতম রোকন হজের ব্যাপারে নতুন নিয়মের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মাহরাম পুরুষ ছাড়া নারীদের হজে যাওয়ার ব্যাপারে ইসলামের বিধিনিষেধ থাকলেও সেটা গায়ের জোরে ‘ফতোয়া’ দিয়ে ‘জায়েজ’ করতে চাচ্ছেন আজীবন মুসলিম বিদ্বেষী এই বিজেপি নেতা। সম্প্রতি রেডিওর একটি অনুষ্ঠানে মোদি জানান, ভারতের স্বাধীনতার ৭০ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। ৪৫ বছরের বেশি বয়সের নারীরা কোনো পুরুষ সঙ্গী ছাড়াই হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। আর নারীদের একা একা হজে যাওয়ার বিষয়টি উৎসাহিত করতে তিনি নারীদেরকে লটারির বাইরে রেখেছেন। কোনো নারী একা একা হজে যেতে চাইলে আর লটারির মুখোমুখি হতে হবে না।

এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি জানিয়েছেন, বয়স ৪৫ পেরোনো মুসলিম নারীরা পুরুষ আত্মীয় ছাড়াই দলবদ্ধভাবে হজে যেতে পারবেন। তবে এক দলে চারজন বা তার বেশিসংখ্যক নারী থাকতে হবে। সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় এই বিধানে নাক গলানোকে বিজিপি সরকার বিপ্লব হিসেবে দেখছে। তাদের মতে এটা মুসলিম নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি নতুন অধ্যায়।

মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভারতের আলেম-ওলামারা। হজ ইসলাম ধর্মের একটি মৌল বিধান। এই ইবাদত কীভাবে করতে হবে এর একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বলে দিয়েছে ইসলাম। যেসব শর্তে হজ ফরজ হয় এর অন্যতম হলো নারীদের ক্ষেত্রে মাহরাম সঙ্গী হওয়া। যাদের সঙ্গে বিয়ে-শাদি হারাম এমন পুরুষ আত্মীয় ছাড়া নারীর ওপর হজ ফরজই হয় না। একজন নারী যত টাকার মালিকই হোন না কেন মাহরাম পুরুষ না থাকলে তার ওপর হজ ফরজ হবে না। ইসলামের এই বিধানটি কার ওপর ফরজ হবে, কীভাবে সে তা পালন করবে একান্তই সেটা ইসলামের নির্দেশনার বিষয়। কোনো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। মোদি সরকার কেন, বিশ্বের সব সরকারপ্রধান একত্র হয়ে সিদ্ধান্ত নিলেও এই বিধানে কোনো হেরফের হবে না।

হজ নিয়ে মোদি সরকার আরেকটি বাজে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতে চলতি বছর থেকে যে মুসলিমরা হজে যাবেন তাদের জন্য আর্থিক ভর্তুকি পুরোপুরি উঠিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ভারতে দীর্ঘদিন ধরে হজে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। এজন্য সেখানকার মুসলমানরা অনেকটা সহজে হজ পালন করতে পারেন। বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম খরচে তাদের হজ সম্পন্ন হয়ে যেত। তবে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল ২০২২ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই ভর্তুকি তুলতে হবে। কিন্তু তার পাঁচ বছর আগেই এক ধাক্কায় সরকার তা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিল। মুসলিম বিদ্বেষী মোদি সরকারের এটাও একটি বাজে নজির হয়ে থাকবে।

মূলত ভারতে মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুসলমানদের সঙ্গে নানা অবিচার চলছে। এমনটা হবে আগেই আঁচ করা যাচ্ছিল। কারণ এই মোদি সেই মোদি যার হাত মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল গুজরাটে। সেই গুজরাটের কসাই যখন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী তখন ভারতে মুসলমানরা দুর্দিনে থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। ভারতে মুসলিম নিপীড়ন নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু মুসলমানদের ধর্মীয় ব্যাপারে নাক গলানোর অপচেষ্টা এর আগে কেউ করেনি। মোদি সরকার সম্প্রতি তিন তালাক একসঙ্গে দিলে তালাক হবে না বলে মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে। এটা নিয়ে ভারতের মুসলমানদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ। আসামের মুসলমানদেরকে বাংলাদেশে পুশইন করার অপচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে মুসলমানদের।

অথচ ভারত স্বাধীন করার পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা মুসলমানদের। এই ভারত শত শত বছর শাসন করেছেন মুসলিম শাসকরা। বহু ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের ক্ষেত্রে ভারত সারা বিশ্বে নজির স্থাপন করেছে। মুসলিম শাসনের স্বর্ণযুগেও ভারতে হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পূর্ণ স্বাধীনতার সঙ্গে নিজেদের ধর্মকর্ম পালন করেছে। কে কার ধর্ম কীভাবে পালন করবে সেটা তাদের ধর্মীয় ব্যাপার, সেখানে রাষ্ট্র বা সরকার কেন নাক গলাবে? অথচ নরেন্দ্র মোদি সেটাই করছেন। তার এই মুসলিম বিদ্বেষ ভারতকে দিন দিন বিভক্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় ভারত খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে গেলেও বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না। আর এর দায় সম্পূর্ণরূপে বর্তাবে মোদি ও বিজেপির ওপর।

Related posts

*

*

Top