চাঁদে কলঙ্ক খোঁজার অপচেষ্টা!

This post has already been read 121 times!

জহির উদ্দিন বাবর
Moon_zahirbaborমাদক ভয়াবহ আকার ধারণ করায় সম্প্রতি দেশে পরিচালিত হয়েছে বড়ধরনের একটি অভিযান। সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশে দেশব্যাপী সাঁড়াশি এই অভিযান পরিচালিত হয়। ‘চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে’ এই স্লোগানে র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে এই অভিযানে নামে। এই অভিযানে মাদক কারবারিদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। এজন্য কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানে হাজার হাজার গ্রেপ্তারের পাশাপাশি কথিত বন্দুকযুদ্ধে শতাধিক সন্দেহভাজন মাদক কারবারি নিহত হয়। প্রতি রাতে ১০ জন, ১৫ জন করে মৃত্যুর খবর আসতে থাকে। দেশব্যাপী মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শীর্ষ মাদক কারবারিরা চলে যায় আন্ডারগ্রাউন্ডে। কথিত বন্দুকযুদ্ধের পুরোনো গল্প অনেকের কাছে বিশ^াসযোগ্য না হলেও এই অভিযানের প্রতি দেশবাসীর একটা সমর্থন ছিল। মাদকের বিরুদ্ধে এমন একটি অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

এই অভিযান চলার কিছুদিনের মধ্যেই একটি ঘটনা বিতর্কের সৃষ্টি করে। কক্সবাজারের টেকনাফের নির্বাচিত কাউন্সিলর একরামুল হককে মাদকের কারবারি হিসেবে ক্রসফায়ারে দেয়া হয়। এই ঘটনার একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়ে যায়। সেখানে মৃত্যুর আগে ওই কাউন্সিলর তার স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে বলতেই তাকে গুলি করা হয় বলে তথ্য বেরিয়ে আসে। করুণ ও হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। মাদকবিরোধী পুরো অভিযানটি পড়ে প্রশ্নের মুখে। এতে অনেকটা স্থিমিত হয়ে যায় অভিযান। কমে আসে ক্রসফায়ারে নিহতের সংখ্যা। এর মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি কৌশল আঁটে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে। একজন হাফেজকে মসজিদ থেকে ইয়াবসহ আটকের নাটক মঞ্চস্থ করার অপচেষ্টা করা হয়। দুটি টেলিভিশন চ্যানেল সেই নাটকটি প্রচারের দায়িত্ব নেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যায় তাদের ঘৃণ্য অপকৌশল।
ঘটনা হলো, জুন মাসের শুরুর দিকে হঠাৎ একদিন খবর আসে শহীদুল্লাহ নামে এক হাফেজকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে নামাজের জায়গা আছে। সেখানেই ওই হাফেজ ইমামতি করেন। নামাজের জায়গা থেকেই তাকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে। খবরটি সচিত্র প্রচার করে একাত্তর ও সময় টেলিভিশন। তাদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কথিত ওই হাফেজ নামাজের জায়গায় ধীরস্থিরভাবে নামাজ পড়ছেন, তার পেছনে একটি ব্যাগ রাখা আছে। এর মধ্যেই এক ব্যক্তি এসে পেছনে বসেন। কথিত ওই হাফেজ নামাজের সালাম ফিরিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে মুসাফাহা করে ব্যাগটি তার হাতে ধরিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি বাইরে বের হতেই কয়েকজন পুলিশ এসে তাকে চ্যালেঞ্জ করে। ব্যাগের ভেতরে কী আছে তা দেখার আগেই এক পুলিশ অফিসার চিৎকার দিয়ে উঠেন ‘ভেতরে ইয়াবা আছে’। সংবাদের পুরো দৃশ্যটি দেখলে মনে হবে খুব কাঁচা হাতের স্ক্রিপ্ট। সবকিছু সাজানো, পরিকল্পিত এটা বুঝতে কারও সমস্যা হওয়ার কথা না।

কিন্তু নাটক যত কাঁচা হাতেরই হোক, সুযোগটি হাতছাড়া করতে চায়নি আলেম-উলামা বিদ্বেষী শ্রেণিটি। তাৎক্ষণিকভাবে এক পুলিশ অফিসার টিভি ক্যামেরার সামনে সাক্ষাৎকার দিয়ে দিলেন। তিনি খুবই আপত্তিকর একটি কথা বললেন। তার ভাষ্য, আগে মসজিদ থেকে জঙ্গি সাপ্লাই দেয়া হতো এখন ইয়াবা সাপ্লাই দেয়া হয়। টেলিভিশন চ্যানেল দুটি ওই হাফেজকে দিয়ে কুরআন তেলাওয়াত করায়। তিনি ভারতের দেওবন্দ মাদরাসায় এবং চট্টগ্রামের পটিয়া মাদরাসায় পড়েছেন বলে প্রচার করে। অন্যান্য মিডিয়াও খবরের সত্যতা যাচাই না করেই ফলাও করে সংবাদটি প্রচার করতে থাকে। ‘এবার ইয়াবাসহ হাফেজ গ্রেপ্তার’ শিরোনামটি পেয়ে যেন তারা হাতে আসমান পেয়ে বসে। কে কত হাইলাইটস করে তা প্রচার করতে পারে এর প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। মাদক সমাজে কত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে সেটা প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো। কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে নিরীহ মানুষদের হত্যার যে অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে উঠেছিল তা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলে।

কিন্তু নাটকটি যে উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছিল তা সফল হয়নি। কারণ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগ। অনেক কিছু গোপন রাখতে চাইলেও তা প্রকাশ হয়ে যায়। অনেকগুলো প্রশ্ন দেখা দেয়। পুরো ভিডিওটি দেখলেই বোঝা যায় এটা বানানো। কয়েক কোটি টাকার ইয়াবা পেছনে রেখে এভাবে কেউ নামাজে দাঁড়ায়! তাছাড়া এখানে ইয়াবা বেচাকেনা হচ্ছে এটা টিভি ক্যামেরা কীভাবে জানে! ধরলাম গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, কিন্তু ক্যামেরার সামনে ওই ব্যক্তি এত সাবলীলভাবে সবকিছু করছে, কথাবার্তা বলছে এটা কি স্বাভাবিক! ব্যাগের ভেতরে কী আছে সেটা দেখার আগেই পুলিশ অফিসার কীভাবে ‘ইয়াবা’ বলে চিৎকার দিয়ে উঠলেন?

ওইদিন রাতে একাত্তর টেলিভিশনের একটি টকশোতে এ ধরনের অনেকগুলো প্রশ্ন তুলে ধরেন সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ। তিনি এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করায় একাত্তর টিভির নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। একজন মুসলমান হিসেবে তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে উল্লেখ করেন। তার প্রশ্ন হলো, একজন হাফেজ ইয়াবাসহ ধরা পড়তেই পারে। তাকে ক্যামেরার সামনে কুরআন তেলাওয়াত করানো হলো কেন? অবশ্যই এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাছাড়া তিনি কোন কোন মাদরাসায় পড়েছেন সেটা এত ফলাও করে প্রচারের উদ্দেশ্যটা কী? নিশ্চয় ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। তাহলে মাদকের অভিযোগে এতদিনের অভিযানে কয়েক হাজার লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে প্রায় দেড়শ লোক। কই তাদের কে কোথায় পড়েছে সেটা নিয়ে তো প্রশ্ন তোলা হয়নি? নামকরা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাদকসহ ধরা পড়ছে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ইয়াবাসহ ধরা পড়ছে, তাদের কারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতিটা তো বড় করে প্রকাশ করা হয় না? এতেই বোঝা যায় কথিত এই হাফেজকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই নাটক সাজানো হয়েছে।

প্রশ্নগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় এই নাটক হালে পানি পায়নি। পরে স্থানীয়ভাবে খবর নিয়ে জানা যায়, ওই ব্যক্তির বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে। তিনি পটিয়া মাদরাসা বা দেওবন্দ মাদরাসায় কোনোদিন পড়েননি। স্থানীয় একটি মাদরাসায় তিনি হাফেজ হয়েছেন সত্য, তবে আর কোনো মাদরাসায় পড়াশোনা করেননি। ইয়াবা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আগেও ছিল। তার বাড়ি যেখানে সেই এলাকাটির বেশির ভাগ মানুষই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। যেদিন ঢাকায় এই নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে এর আরও সপ্তাহখানেক আগেই তাকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। সবমিলিয়ে এটা বেশ জোরালোভাবেই প্রমাণিত, এই নাটকটি সাজানো হয়েছিল উদ্দেশ্যমূলকভাবে, জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আলেম-উলামা বিদ্বেষী কয়েকটি মিডিয়ার মাধ্যমে এই নাটক মঞ্চস্থ করে নিজেরা দায়মুক্তির চেষ্টা করেছিল। তবে তাদের এই অপচেষ্টা বুমেরাং হয়েছে।

দুই.
দেশের আলেম-উলামা বা মাদরাসা শিক্ষিতদের মধ্যে মাদকের সংশ্লিষ্টতা খোঁজার চেষ্টা করা চাঁদে কলঙ্ক খোঁজার মতোই। আমাদের সমাজে মাদক যখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তখনও মাদরাসাপড়–য়ারা এই মারণব্যাধি থেকে অনেকটা সুরক্ষিত। তাদের অন্য যত দোষ-ত্রুটিই থাকুক অন্তত মাদকের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দেশের লাখ লাখ মাদরাসাপড়–য়ার ভেতর থেকে পাঁচ-দশজনও মাদকের সঙ্গে জড়িত এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। ইয়াবা-গাঁজা তো দূরের কথা, মাদরাসাপড়–য়ারা সিগারেটের মতো ছোটখাট মাদকদ্রব্য থেকেও সতর্কতার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখে। মাদক যে ক্ষতিকর সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্পেইনের দ্বারা মাদরাসাপড়–য়াদের বুঝতে হয় না। মাদরাসার পরিবেশে শিশুকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের প্রতি একটা ঘৃণা এবং এর কুফল ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এজন্য মাদরাসায়পড়–য়ারা সিগারের মতো মাদকেও কখনও অভ্যস্থ হয় না। অথচ স্কুল-কলেজের পরিবেশে এটা কোনো অপরাধই না, বরং সিগারেট না খেলে তাকে ‘আনস্মার্ট’ মনে করা হয়।

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আমরা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি, স্বাধীনতার ৪৮ বছরে মাদরাসাপড়–য়া কতজনকে তারা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে? সংখ্যার বিচারে সেটা কোনো হিসাবেই পড়বে না। শতকরা শূন্য দশমিক পাঁচ ভাগও হবে না। লাখ লাখ ঘটনার মধ্যে দুটি বা চারটি ঘটনা এমন ঘটতে পারে নানা পারিপাশির্^কতার কারণে মাদরাসাপড়–য়া কেউ এমন চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়ে যেতে পারে। এটা অসম্ভব কিছু নয়। বিশেষ করে ইয়াবাসহ মাদক পাচার আর্থিকভাবে যতটা লাভজনক এই লোভ অনেকের পক্ষে সামলানো কঠিন। প্রলোভনে পড়ে হাফেজ শহীদুল্লাহদের মতো কেউ বিপথগামী হয়ে যেতে পারে। কেউ অপরাধ করলে প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে, এতে কারও কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু একটি-দুটি ঘটনাকে পুঁজি করে যারা পুরো কমিউনিটিকে আঘাত করে কথা বলে বুঝতে হবে এর মধ্যে তাদের দুরভিসন্ধি আছে।
চলমান মাদকের ভয়াবহতার সঙ্গে সমাজের কোনো শ্রেণি বা কোন কমিউনিটির মানুষ জড়িত নয়? মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে কক্সবাজারের একজন সংসদ সদস্যের কথা বারবার আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশে ইয়াবা আমদানিতে তার সম্পৃক্ততা এখন আর কারও অজানা নয়। এলিট শ্রেণি থেকে শুরু করে সমাজের ছিঁচকে ব্যক্তিটিও আজ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। ইয়াবাসহ ম্যাজিস্ট্রেট ধরা খাওয়ার ঘটনাও আমরা দেখেছি। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততা তো অনেকটা ওপেন সিক্রেট বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিচারক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ, র‌্যাব, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে মাদকের সঙ্গে। কোনো শ্রেণি-পেশার দুইজন আর চারজন মানুষ কোনো অপরাধে জড়ালে এর সঙ্গে কি পুরো শ্রেণি-পেশাকে জড়িয়ে কথা বলা উচিত? তাহলে তো সমাজে কোনো শ্রেণি বা পেশা এমন পাওয়া যাবে না যারা অপকর্মে লিপ্ত নয়।

শুধু মাদক নয়, যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম সম্পৃক্ততা আলেম-উলামার। গত ৪৮ বছরে ফৌজদারি অপরাধে কতজন আলেমের দ- হয়েছে? কতজন আলেম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রেপ্তার হয়েছে? কতজন আলেম সন্ত্রাসী হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় রয়েছেন? বিশ্লেষণ করে দেখুন এই পরিমাণটা কোনো হিসাবের মধ্যেই পড়বে না। সমাজের সবচেয়ে শান্তশিষ্ট, সবচেয়ে নিরীহ, সবচেয়ে নিরপরাধ শ্রেণিটি হলো আলেম-উলামা তথা মাদরাসাপড়–য়ারা। মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টির পেছনেও সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেন আলেমরা। মাহফিলের বক্তা থেকে শুরু করে জুমার খতিব প্রতি মুহূর্তে মাদক, দুর্নীতিসহ নানা অপরাধ থেকে মুক্ত থাকতে উদ্বুদ্ধ করছেন সমাজের মানুষদের। হয়ত তাদের এই অবদানের কথা কেউ চিন্তা করেন না, এটা প্রচার পায় না, এজন্য তাদের অবমূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু সেই নিরপরাধ, অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে যাদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি তাদেরকে যখন উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার অপকৌশল চালানো হয় তখন এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে!

*

*

Top