ইতিবাচক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

istam80তুরাগ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫০ তম বিশ্ব ইজতেমা। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এদেশে শুধু মুসলমানদের কাছেই নয়, অমুসলিমদের কাছেও ইজতেমা উপলক্ষটি গুরুত্ব পায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ইজতেমার এই গণজমায়েতকে সম্মান করেন, সাধ্যমতো সহায়তা জোগান। ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী শান্তিপ্রিয় মুসল্লিদের সবাই সমীহ ও শ্রদ্ধা করেন। কারণ ইজতেমা গতানুগতিক ধারার কোনো সমাবেশ নয়। প্রভুভক্তির অপূর্ব নজির স্থাপিত হয় এখানে। অম্লান বদনে, হাসিমুখে সবাই সয়ে নেন সব দুঃখ-কষ্ট। ইসলামের নানা শিক্ষায় সমৃদ্ধ হন ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীরা। ভ্রাতৃত্বের সুদৃঢ় বন্ধন স্থাপিত হয় এখানে। কোনো প্রচার-প্রচারণা ও আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই অভাবিত সাড়া পড়ে যায় চারদিকে। উদ্দেশ্যের সাধুতাই ইজতেমার মূল পুঁজি।

মুসলমান সংখ্যায় অনেক, কিন্তু বাস্তব জীবনে ইসলামের অনুশীলন করেন খুব কম লোকই। যারা ইসলামে থেকেও ইসলাম থেকে দূরে সরে আছেন তাদের দীনের গণ্ডিতে নিয়ে আসতেই তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠা। আল্লাহর রাস্তায় নিবেদিত বান্দাদের কার্যক্রম মূল্যায়ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সাধারণ মুসলমানের মধ্যে দীনের স্পিরিট জাগাতেই প্রতি বছর ইজতেমার আয়োজন করা হয়। ইজতেমার বয়ানগুলোর মূল বিষয়ই হলো, মুমিন বান্দার অন্তরে আখেরাতের ভাবনা জাগ্রত করা। পরিশীলিত ও নিয়ন্ত্রিত জীবনাচারে উদ্বুদ্ধ করা। ইজতেমা ময়দান থেকে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বেরিয়ে যান দীনের রাস্তায়। নিজেদের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে দীন শেখেন, অন্যদের শেখান। এভাবে তাবলিগের কার্যক্রম সারাবিশ্বে বিস্তৃতি ঘটেছে। লাখ লাখ মুবালি¬গ সারা বছর পৃথিবীর নানা প্রান্তে তাবলিগের কাজে নিয়োজিত থাকেন। পথহারা অগণিত মানুষ তাবলিগের সন্ধান পেয়ে জীবন সাজানোর সুযোগ লাভ করছেন। মানুষকে সভ্য, শালীন, মার্জিত করার পেছনে তাবলিগের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

Ijtema 1বাংলাদেশের মানুষ স্বভাবতই ধর্মপ্রিয়। ধর্মের প্রতি বিশেষ এ অনুরাগের কারণেই বিশ্ব ইজতেমার মতো আন্তর্জাতিক একটি মুসলিম সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে তারা নির্বাচিত হয়েছেন। বারবার চেষ্টা করেও তাদের এ সম্মান কেউ ছিনিয়ে নিতে পারেনি। দারিদ্র্যপীড়িত সমস্যাসংকুল একটি দেশের মানুষ আমরা। বিদেশে গিয়ে বিশ্ব ইজতেমায় শরিক হওয়ার সামর্থ্য এ দেশের খুব বেশি লোকের নেই। কিন্তু প্রতিটি মানুষের মধ্যে আছে আবেগ, ভালোবাসা ও খোদাপ্রেমের জ্বলন। এজন্য হয়তো খোদার কৃপাদৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে আমাদের প্রতি। বিশ্ব মুসলিমের দ্বিতীয় মহাসমাবেশের আয়োজক হিসেবে কবুল করেছেন বাংলাদেশকে। বারবার ভাগ্যনির্ধারণী লটারিতেও কেউ ছিনিয়ে নিতে পারেনি আমাদের ভাগ্য। বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক হিসেবে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আজ বেশ উজ্জ্বল।

বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক হিসেবে বিশ্বমিডিয়ায় বাংলাদেশ প্রসঙ্গটি ইতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়। ইজতেমায় অংশগ্রহণের জন্য বিদেশি মেহমান যারা আসেন তারাও বাংলাদেশ এবং এর জনগণের প্রতি একটি সুধারণা নিয়ে যান। ইজতেমার কারণে সারাবিশ্বের সঙ্গে আমাদের আদান-প্রদান ঘটে, ভাব বিনিময় হয়। এর ফলে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয়ভাবে যেমন লাভবান হয়, তেমনি অর্থনৈতিকভাবে বেশ সমৃদ্ধি অর্জন করে। ইজতেমার নিপুণ আয়োজন দেখে বিদেশিরা রীতিমতো মুগ্ধ হন। এদেশের মানুষের ধর্মীয় আবেগ, শৃঙ্খলাবোধ, আতিথেয়তা সবই তাদের মনে দাগ কেটে যায়। যারা বাংলাদেশ সম্পর্কে আগে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতেন, তারাও বিশ্ব ইজতেমায় এসে একটি পজেটিভ বাংলাদেশের সন্ধান পান। সুতরাং সবদিক বিবেচনা করলে ইজতেমা শুধুই একটি ধর্মীয় সমাবেশ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের জাতীয় পরিচয়ের গভীর সূত্র।

*

*

Top